দ্বৈত ভোটার বা ডাবল ভোটার হওয়া বাংলাদেশে আইনত দণ্ডনীয় একটি অপরাধ। ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ যদি একের অধিকবার ভোটার হয়ে যায় তবে একটি ভোটার আইডি কার্ড বাতিল করতে হবে।
ইচ্ছাকৃতভাবে কিংবা ভুলবশত যেকোনো ব্যক্তি যদি একের অধিক ভোটার আইডি কার্ড করে ফেলেন, অর্থাৎ ভিন্ন তথ্য দিয়ে দুইটি বা এর অধিক ভোটার আইডি কার্ড করে ফেলেন, তবে আসল ভোটার আইডি কার্ডটি রেখে অন্যগুলো বাতিল করে দিতে হবে।
ডাবল ভোটার হলে করণীয় কী এবং কীভাবে দ্বৈত ভোটার বাতিল করতে হয় জানতে পোস্টটি শেষ অব্দি পড়ুন।
আলোচিত বিষয়বস্তু
দ্বৈত ভোটার হলে করণীয় কী
একটি ভোটার আইডি কার্ড থাকার পরেও কেউ যদি ভিন্ন তথ্য দিয়ে নতুন একটি ভোটার আইডি কার্ড তৈরি করে কিংবা একের অধিক ভোটার আইডি কার্ড তৈরি করে, তবে আসল ভোটার আইডি কার্ডটি রেখে বাকি সবগুলো বাতিল করে দিতে হবে।
একাধিক এনআইডি কার্ড থাকা বাংলাদেশে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ইচ্ছাকৃতভাবে কিংবা ভুলবশত কেউ একাধিক ভোটার হয়ে গেলে বাতিল করতে হবে। নয়তো, ১ বছরের জেল কিংবা ২০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে ১ বছরের জেল এবং ২০ হাজার টাকা উভয় জরিমানা হতে পারে।
বয়স হওয়ার পূর্বে কেউ যদি এনআইডি কার্ড তৈরি করে ফেলে অথবা ভোটার আইডি কার্ড থাকার পরেও কেউ যদি ভিন্ন তথ্য দিয়ে একাধিক ভোটার আইডি কার্ড তৈরি করে, তবে আসলটি রেখে বাকিগুলো বাতিল করতে হবে।
দ্বৈত ভোটার হওয়ার কারণ
অনেকেই বিভিন্ন কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে দ্বৈত ভোটার নিবন্ধন করেন। এগুলোর মাঝে কিছু হলো – নিজের পরিচয় গোপন রাখতে নতুন ভোটার নিবন্ধন করা, পূর্বের ভোটার আইডি কার্ডে তথ্য ভুল থাকলে সেটি সংশোধন না করে নতুন করে ভোটার নিবন্ধন করা, ভোটার আইডি কার্ডের বয়স কমাতে বা বাড়াতে নতুন করে ভোটার নিবন্ধন করা, এনআইডি কার্ড হারিয়ে গেলে সেটি রি-ইস্যু না করে নতুন করে নিবন্ধন করা।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনেকেই অপরাধ ঢাকতে নতুন করে ভোটার আইডি কার্ড তৈরি করেন। তাই, এটি একটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ইচ্ছাকৃতভাবে হোক কিংবা ভুলবশত, একের অধিক ভোটার আইডি কার্ড থাকলে সেটি বাতিল করতে হবে।

দ্বৈত ভোটার হওয়ার শাস্তি
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০ এর ধারা ১৪ অনুযায়ী “কোন নাগরিক মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপন করিলে এক বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক বিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।”
ধারা ১৫ অনুযায়ী “একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করিলে এক বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক বিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।”
ধারা ১৬ অনুযায়ী “দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা/কর্মচারী তথ্য-উপাত্ত বিকৃত বা বিনষ্ট করিলে অনূর্ধ্ব সাত বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।”
ধারা ১৭ অনুযায়ী “কোন কর্মকর্তা/কর্মচারী দায়িত্বে অবহেলা করিলে অনূর্ধ্ব এক বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক বিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।”
দ্বৈত ভোটার আইডি বাতিল করার নিয়ম
দ্বৈত ভোটার আইডি কার্ড বা ডাবল ভোটার আইডি কার্ড বাতিল করতে একটি আবেদন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন অফিস বরাবর আবেদন করার মাধ্যমে একাধিক এনআইডি কার্ড বাতিল করে নিতে পারবেন।
ডাবল ভোটার আইডি কার্ড বাতিল করতে আপনার আসল ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার, জন্ম নিবন্ধন সনদের নাম্বার, জন্ম তারিখ, নিজের পুরো নাম, পিতা-মাতার নাম ও ঠিকানা এবং নকল ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার, নাম, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা ও জন্ম তারিখ দিয়ে একটি আবেদনপত্র লিখতে হবে।
আবেদনপত্রে আসল ভোটার আইডি কার্ডের সকল তথ্য এবং নকল ভোটার আইডি কার্ডের সকল তথ্য উল্লেখ করতে হবে। আবেদনপত্রটি নির্বাচন কমিশন অফিসার বরাবর লিখতে হবে। সেখানে উল্লেখ করতে হবে যে আপনি ভুলবশত একাধিক ভোটার হয়ে গেছেন। তাই, আসল ভোটার আইডি কার্ডটি রেখে নকলটি বাতিল করতে চান।
অতঃপর, এই আবেদনপত্রটি নির্বাচন কমিশন অফিসে গিয়ে জমা দিয়ে আসতে হবে কিংবা ডাকযোগে পাঠাতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে বেশ কিছু ডকুমেন্ট পাঠাতে হবে। এগুলো হলো –
- আসল ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি
- নকল ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি
- আসল জন্ম নিবন্ধন সনদ
- পিতা-মাতার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি
- ভোটার আইডি কার্ড বাতিলের ফি
এই সবগুলো ডকুমেন্ট দ্বৈত ভোটার আইডি কার্ড বাতিলের আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করে নির্বাচন কমিশন অফিসে জমা দিতে হবে কিংবা ডাকযোগে পাঠাতে হবে। আবেদনপত্রে অবশ্যই আপনার সাথে যোগাযোগ করার মাধ্যম উল্লেখ করে দিবেন।
এছাড়া, নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে যদি আপনার কাছে আরও কোনো ডকুমেন্ট চাওয়া হয়, সেগুলো পরবর্তীতে প্রদান করতে হবে। এভাবে আবেদন করার পর তারা সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করার পর আপনার আসল ভোটার আইডি কার্ডটি রেখে নকলটি বাতিল করে দিবেন।
সারকথা
ইচ্ছাকৃতভাবে কিংবা ভুলবশত যদি দ্বৈত ভোটার বা ডাবল ভোটার হয়ে থাকেন, তবে যত দ্রুত সম্ভব আসলটি রেখে নকল ভোটার আইডি বাতিল করতে হবে। নয়তো, ধরা পড়লে ২০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা ১ বছরের জেল অথবা উভয় শাস্তি হতে পারে।
পোস্টে দেখানো পদ্ধতি অনুসরণ করে সহজেই ডাবল ভোটার আইডি কার্ড বাতিল করে নিতে পারবেন। এছাড়াও, ভোটার আইডি কার্ড এবং জন্ম নিবন্ধন সনদ সম্পর্কিত আপডেট তথ্য জানতে ওয়েবসাইটটি ঘুরে দেখুন।
FAQ
অনলাইনে দ্বৈত ভোটার বাতিল করা যায়?
না, অনলাইনে দ্বৈত ভোটার বাতিল করা যায়না। ডাবল ভোটার বাতিল করতে নির্বাচন কমিশন বরাবর সরাসরি আবেদন করতে হবে অথবা আবেদনপত্র লিখে ডাকযোগে পাঠাতে হবে।





